বদলি-পদায়নের নামে টাকা আদায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার, অতঃপর…

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

বদলি ও পদায়নের কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নীলুফার সুলতানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার (২১ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুহাম্মদ আবদুল্যাহ আল জাবেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত ১৮ জুন এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নীলুফার সুলতানার বিরুদ্ধে রমনা থানায় দায়ের করা একটি মামলায় জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন করা হলে মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে গত ২২ মে তাকে গ্রেপ্তারের অনুমতি দেওয়া হয়।

এতে আরও বলা হয়, মামলার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয়। রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের তারিখ ২২ মে থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।

এর আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ নীলুফার সুলতানাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া অপর ব্যক্তি হলেন এম আমিনুর রহমান শান্ত। ডিবি জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবর একটি অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে একটি চক্র সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পদ ও কমিটিতে স্থান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

অভিযোগের ভিত্তিতে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে গত ২১ মে রাতে রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকা থেকে এম আমিনুর রহমান শান্তকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে শান্ত প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা বিশ্লেষণ করে নীলুফার সুলতানার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

ডিবির কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে বদলি ও পদায়ন সংক্রান্ত কথোপকথন, জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য বদলি আদেশের কপি আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তদন্তে পাওয়া কথোপকথনে কোথায় পদায়ন করা যাবে এবং এর বিনিময়ে কত টাকা নেওয়া হবে—এ ধরনের আলোচনার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।