দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্মতিপূর্ণ সম্পর্ক শুধুমাত্র বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার কারণে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
বিচারপতি বিবেক কুমার সিংয়ের একক বেঞ্চ অভিযুক্ত সঞ্জয় সরোজ ওরফে সঞ্জয় কুমারের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ অন্যান্য অভিযোগে চলমান বিচারিক কার্যক্রম বাতিল করে এ রায় দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, মামলায় উপস্থাপিত তথ্য ও পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিযোগকারী নারী ও অভিযুক্তের মধ্যে সম্পর্কটি ছিল পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী যদি স্বেচ্ছায় ও পূর্ণ সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান, তাহলে পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার কারণে সেই সম্পর্ককে সরাসরি ধর্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রতাপগড়ের এক নারী প্রয়াগরাজে আসেন। অভিযুক্ত সঞ্জয় সরোজ ছিলেন তার দূর সম্পর্কের আত্মীয়। তিনি ওই নারীকে পড়াশোনা ও থাকার বিষয়ে সহযোগিতা করেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়, যা প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলতে থাকে।
২০১৯ সালে ওই নারী থানায় অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন এবং পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মারধর ও হুমকির অভিযোগও করেন। অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত তার সঙ্গে একত্রে বসবাস করতেন এবং তাকে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেছিলেন। তবে চিকিৎসা পরীক্ষায় কোনো শারীরিক আঘাতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পুলিশ তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করলে অভিযুক্ত হাইকোর্টে আবেদন করেন। শুনানিতে আদালত বলেন, দীর্ঘ পাঁচ বছরের সম্পর্ককে শুধুমাত্র শেষ পর্যন্ত বিয়ে না হওয়ার কারণে ধর্ষণের অভিযোগে রূপ দেওয়া আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী কয়েকটি রায়ের উল্লেখ করে আদালত বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ প্রযোজ্য হতে হলে প্রমাণ করতে হবে যে সম্পর্কের শুরু থেকেই বিয়ের প্রতিশ্রুতি প্রতারণামূলক ছিল এবং সেই প্রতারণার মাধ্যমেই সম্মতি নেওয়া হয়েছিল।
আদালত আরও বলেন, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর প্রতিটি ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগ করা হলে আইনের অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই এই মামলায় ফৌজদারি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া ন্যায়সংগত হবে না বলে আদালত মত দেন।