বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬কে সামনে রেখে ক্রীড়াবান্ধব ও সম্প্রীতিমূলক উদ্যোগ হিসেবে ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের আয়োজনে শুরু হয়েছে “ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬”। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার আমিন বাজারের গলগন্ডা মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান-এর। তবে তিনি উপস্থিত থাকতে না পারায় তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে ডিআই-১, ডিএসবি ময়মনসিংহের মো. জসিম উদ্দিন টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদ হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুনসুর আলম চন্দন, স্পেশাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আল-আমিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ক্রীড়ানুরাগী, সমাজসেবক, খেলোয়াড় ও বিপুলসংখ্যক দর্শক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি একটি সুস্থ, সচেতন ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার। বর্তমান সময়ে তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন যুবসমাজের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রধান অতিথির প্রতিনিধি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। খেলাধুলা মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে জাহিদ হাসান বলেন, ফুটবল বিশ্বকাপের আবহকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার এবং যুবসমাজকে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে নতুন প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরি হবে এবং স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের টুর্নামেন্টে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ২৫টি দল অংশগ্রহণ করছে। কয়েক সপ্তাহব্যাপী চলা এই প্রতিযোগিতায় প্রতিটি ম্যাচে থাকবে জমজমাট লড়াই। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর অনুষ্ঠিত প্রদর্শনী ম্যাচে খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই টুর্নামেন্ট স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি, সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণ এবং তরুণদের গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।