যে ৩ আমলে বিয়ে হয় সহজে

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

বিয়ে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বৈধ বিধান। আল্লাহ তাআলা মানুষের জীবনে প্রশান্তি, ভালোবাসা ও মায়া প্রতিষ্ঠার জন্য বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন। তবে সামাজিক নানা বাধা, উপযুক্ত পাত্র-পাত্রীর অভাব কিংবা বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে অনেক যুবক-যুবতীর বিয়ে বিলম্বিত হয়। এতে অনেকে মানসিক দুশ্চিন্তায় ভোগেন।

ইসলাম বিয়েকে শুধু সামাজিক বন্ধন নয়, বরং শান্তি ও আত্মিক তৃপ্তির মাধ্যম হিসেবে দেখেছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও মায়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা রুম, আয়াত: ২১)

যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখেন, তাদের দ্রুত বিয়ে করতে উৎসাহ দিয়েছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি বলেছেন, ‘হে যুব সমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

বিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতও। তাই উপযুক্ত সময়ে বিয়ের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং নেক আমল করা উত্তম।

দ্রুত বিয়ের জন্য যেসব আমল করা যেতে পারে—

১. বেশি বেশি দোয়া করা
আল্লাহ তাআলার কাছে নিজের প্রয়োজন তুলে ধরে দোয়া করা মুমিনের অন্যতম ইবাদত। বিয়ের বিষয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে আল্লাহর কাছে কল্যাণকর জীবনসঙ্গী পাওয়ার জন্য নিয়মিত দোয়া করা উচিত। কোরআনে এসেছে, আল্লাহ বান্দার দোয়ার জবাব দেন এবং তাদের আমল নষ্ট করেন না। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯৫)

২. কোরআনের একটি বিশেষ দোয়া পড়া
বিয়ের জন্য কল্যাণকর জীবনসঙ্গী ও সুখী পরিবার কামনায় সুরা ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াতের দোয়া পড়া যেতে পারে।

দোয়া:
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

উচ্চারণ:
রব্বানা হাব লানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিইয়াতিনা কুররাতা আইউন, ওয়া জা আলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।

অর্থ:
‘হে আমাদের রব, আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করুন, যারা আমাদের চোখের শীতলতা হবে এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানান।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত: ৭৪)

৩. নফল নামাজ আদায় করা
কঠিন সময় ও প্রয়োজনের মুহূর্তে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া উত্তম আমল। দ্রুত ও কল্যাণকর বিয়ের জন্য সালাতুল হাজত (প্রয়োজন পূরণের নামাজ) আদায় করে আল্লাহর কাছে নিজের আশা ও প্রয়োজন তুলে ধরা যেতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাইতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৩১৯)

তবে ইসলামে দোয়া ও আমলের পাশাপাশি বাস্তব উদ্যোগ নেওয়াকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে উপযুক্ত পাত্র বা পাত্রী খোঁজা, পরিবারের সহযোগিতা নেওয়া এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাও জরুরি। আল্লাহ যাকে কল্যাণকর মনে করেন, তার জন্য উত্তম সময়েই বিয়ের ব্যবস্থা করে দেন।