যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা চুক্তি কার্যকর, খুলছে হরমুজ 

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও সংঘাতের পর অবশেষে সমঝোতার পথে এগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সমঝোতাকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখনো চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় দেশ আলোচনা চালিয়ে যাবে। প্রয়োজন হলে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে। চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে কম সমৃদ্ধ পর্যায়ে নামিয়ে আনতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি পরবর্তী আলোচনায় নির্ধারণ করা হবে।

সমঝোতার অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এই অর্থ সরাসরি ওয়াশিংটন দেবে না; বরং আঞ্চলিক অংশীদারদের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করা হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কাজ করবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের আটকে থাকা কিছু অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থাও করা হবে।

চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই নৌপথে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। এদিকে চুক্তিতে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উভয় পক্ষ দেশটিতে নতুন করে কোনো সামরিক অভিযান না চালানোর অঙ্গীকার করেছে।

তবে ইরানের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে। ফলে আগামী দুই মাসের আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিতর্ক শুরু হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে আলোচনা অব্যাহত থাকবে; তবে তা ব্যর্থ হলে সামরিক বিকল্পও খোলা থাকবে।