প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে চালু হচ্ছে নতুন দুই বিষয়

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে নতুন বিষয় চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

মাহদী আমিন বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ শ্রেণিতে ‘ক্রীড়া’ ও ‘সংস্কৃতি’ নামে দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ এবং ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ নামে আরও দুটি নতুন বিষয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিকতা, সৃজনশীলতা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং কর্মমুখী দক্ষতাভিত্তিক করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সমতা, ন্যায্যতা এবং সুযোগের সমবণ্টন নিশ্চিত হবে। শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য কমিয়ে দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা সনদ অর্জনের মাধ্যম নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা, পারিবারিক শিক্ষা ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গার্লস গাইড, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটসহ বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও বাস্তব দক্ষতা বাড়াতে দেশব্যাপী ক্রীড়া, সংস্কৃতি, বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দলগত কাজের দক্ষতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরি হবে।

তিনি আরও জানান, অষ্টম শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগার স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ, কর্মক্ষেত্রভিত্তিক শেখার সুযোগ এবং হাতে-কলমে শিক্ষার পরিধি বাড়ানো হবে। মাহদী আমিন বলেন, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি করাই নতুন শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য।