সাত গোলের দুর্দান্ত জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে জার্মানি। মাঠের পারফরম্যান্সে এখন পর্যন্ত আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে থাকলেও টুর্নামেন্ট চলাকালীন নতুন এক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এবার প্রতিপক্ষ দলের বদলে জার্মান ফুটবলারদের চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে বিষধর সাপ।
নর্থ ক্যারোলিনার উইনস্টন-সালেমে জার্মান দলের অনুশীলন ক্যাম্পে হঠাৎ করেই ঘাসের আড়ালে দেখা যায় একটি কপারহেড সাপ। স্থানীয়ভাবে এই প্রজাতির সাপের উপস্থিতি সাধারণ হলেও এটি বিষধর হওয়ায় জার্মান শিবিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শুধু জার্মানিই নয়, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ে দলও একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের অনুশীলন ক্যাম্পেও সাপের উপস্থিতি নিয়ে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
জার্মান অধিনায়ক জোশুয়া কিমিচ জানিয়েছেন, ফুটবলের বড় আসরে সাধারণত কৌশল, প্রতিপক্ষ, চোট-আঘাত এবং ম্যাচ পরিকল্পনা নিয়েই ভাবতে হয়। কিন্তু এবার বাড়তি চিন্তা হিসেবে যোগ হয়েছে ঘাসের নিচে লুকিয়ে থাকা সাপ। কিমিচ বলেন, “জার্মানিতে আমরা স্ট্রাটেজি, ট্যাকটিক্স, চোট-আঘাত এবং পরের প্রতিপক্ষ নিয়ে চিন্তা করি। কিন্তু এখানে ঘাসের তলায় কী লুকিয়ে আছে, সেটাও ভাবতে হচ্ছে।”
তিনি জানান, ক্যাম্পে একটি কপারহেড সাপ দেখার পর তারা বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন। পরে জানতে পারেন, এই সাপের কামড়ে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। যদিও সাধারণত প্রাণঘাতী নয়, তবে অসতর্ক হলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক রয়েছেন তারা। কিমিচ বলেন, “ভুল করে সাপের গায়ে পা পড়ে গেলে বিপদ হতে পারে। তাই আমরা দূরত্ব বজায় রাখছি। এখানকার মানুষের প্রতি আমাদের সম্মান আছে, তবে জার্মানিতে এমন বিষধর প্রাণীর উপস্থিতি খুব একটা দেখা যায় না।”
এদিকে নরওয়ের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান থোরস্টভেডও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নিতে এসে এখন খেলোয়াড়দের পা ফেলার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হচ্ছে। তবে সাপের আতঙ্ক পেছনে ফেলে দ্রুত মাঠের খেলায় মনোযোগ ফেরাতে চায় জার্মানি। আগামী ২১ জুন আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ম্যাচে জয় ধরে রাখাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।