ধর্ষণ মামলায় ছাত্রশিবিরের সেই কেন্দ্রীয় নেতা কারাগারে

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে করা মামলায় অভিযুক্ত ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক (সদ্য বহিষ্কৃত) জিসান মিয়া প্রধানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে কুমিল্লা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতে তাকে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাইয়োব উদ্দিন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কুমিল্লা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. মামুনুর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জিসান মিয়া প্রধান কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বীরবাগ গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছিলেন এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর আগে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের চার সদস্যের বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে তাকে সুস্থ বলে প্রতিবেদন দেয়। এরপর মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দেয়।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নিশাত সুলতানা জানান, জিসানের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য গঠিত চিকিৎসক বোর্ড প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেখানে তাকে সুস্থ উল্লেখ করা হয়েছে। বোর্ডের মতামতের ভিত্তিতে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

জিসানের আইনজীবী ও তার ভাই নাহিদ পাটোয়ারী বলেন, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত পর্যবেক্ষণের পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, আদালতেই প্রমাণ হবে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন নাকি অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পুলিশ জানায়, এ মামলায় জিসান ছাড়াও আরও তিন আসামি সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীব কারাগারে রয়েছেন। তারা আদালতে ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

এর আগে গত ১১ জুন রাত থেকে নিখোঁজ হন জিসান মিয়া প্রধান। পরে শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাকে প্রথমে লাকসাম জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ জানায়, ২৫ বছর বয়সী এক নারী বাদী হয়ে জিসানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় আরও তিনজনকে সহায়তাকারী হিসেবে আসামি করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়ার পর থেকে জিসান পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।