আওয়ামী লীগের শাসনামলে কর্মহীন হয়ে পড়া সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী ‘দৈনিক বাংলা’, ‘বাংলাদেশ টাইমস’ এবং সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’ পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস ও বিচিত্রার ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যগত মূল্য রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করে সাংবাদিকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, সময় ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে গণমাধ্যমের ধরন বদলালেও সাংবাদিকদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। এ ক্ষেত্রে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যমগুলো পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে নতুন নতুন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে চলেনি। ১৯৭৫ সালের একদলীয় শাসনব্যবস্থা এবং পরবর্তী সময়ের শাসনামলও তার প্রমাণ।’
তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরের শাসনব্যবস্থার ওপর এখনো পূর্ণাঙ্গ ইতিহাসভিত্তিক কোনো গ্রন্থ প্রকাশ হয়নি। এ বিষয়ে সাংবাদিক ও গবেষকদের কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার উদ্যোগ নিলেও কিছু গণমাধ্যম মালিক সাংবাদিকদের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করছেন। তিনি সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরীসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।