২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এতে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত রাজস্ব আয়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট রাজস্ব আয় জিডিপির ১০ দশমিক ২ শতাংশের সমান।
তিনি আরও বলেন, এবারের বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাবদ ৩ লাখ কোটি টাকাসহ উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। অপরদিকে পরিচালন ও অন্যান্য খাতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
খাতভিত্তিক বরাদ্দে সামাজিক অবকাঠামো খাতে ২ লাখ ৭৯ হাজার ১ কোটি টাকা, ভৌত অবকাঠামো খাতে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা এবং সাধারণ সেবা খাতে ২ লাখ ৪৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ঘাটতি অর্থায়নের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, মোট ঘাটতির ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতের উচ্চ ঋণ ও সুদ পরিশোধের চাপ বর্তমানে বাজেট ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলছে। তাই রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ঋণ ব্যবস্থাপনা সংস্কার এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামো আধুনিকায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফেরানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গবেষণা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ঘাটতি অর্থায়নের চাপ সামলানো এবারের বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে।