ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বাজেট বেড়েছে ৭৮২ কোটি, কোন খাতে কত?

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৬ লাখ টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে উন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৭৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং পরিচালন খাতে ১ হাজার ৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮০৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এবারের প্রস্তাবিত বাজেট গত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৭৮২ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা বেশি। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। ‘ক্রীড়া হবে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ কর্মসূচির আওতায় এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় বাজেটে ক্রীড়াবিদদের জন্য আনুষ্ঠানিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এ কর্মসূচির আওতায় ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে মাসিক এক লাখ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। এজন্য বছরে মোট ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ‘নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া কর্মসূচি’ অব্যাহত রাখা হয়েছে। বর্তমানে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ আটটি খেলায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সারা দেশ থেকে এ কর্মসূচিতে ১ লাখ ২১ হাজার ৪৯২ জন কিশোর এবং ৪৭ হাজার ১৩০ জন কিশোরী নিবন্ধিত হয়েছে। সব মিলিয়ে নিবন্ধিত খেলোয়াড়ের সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬২২ জন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া পরিদপ্তর এবং ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ট্রাস্ট। মন্ত্রণালয়ের বাজেটের বড় অংশ যুব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে ব্যয় হলেও ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, ফেডারেশন পরিচালনা এবং খেলোয়াড় তৈরিতেও উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করা হয়।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন ও জেলা-উপজেলার ক্রীড়া সংস্থাগুলোর অনুদান বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে দেশের ক্রীড়াবিদ তৈরির প্রধান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।