রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেকে পানি স্বল্পতার কারণে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র-এর পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে মাত্র ৫৮ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। বুধবার (১০ জুন) সকালে কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই লেক-এর পানির স্তর কমে যায়। চলতি সপ্তাহে কিছু বৃষ্টিপাত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় লেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ পানি জমেনি। রুল কার্ভ অনুযায়ী বর্তমানে লেকের পানির স্তর ৭৮ দশমিক ৩৪ ফুট মিন সি লেভেল থাকার কথা থাকলেও বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তা ছিল মাত্র ৭৩ দশমিক ৯১ ফুট মিন সি লেভেল। অর্থাৎ স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় পানির স্তর ৪ দশমিক ৪৩ ফুট কম রয়েছে।
কেন্দ্রটির কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চালু থাকা দুটি ইউনিট থেকে মোট ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৩০ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকলে সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। কিন্তু পানি সংকটের কারণে বর্তমানে উৎপাদন ক্ষমতার এক-চতুর্থাংশেরও কম বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে লেকের পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাবে না। ফলে বন্ধ থাকা বাকি তিনটি ইউনিটও চালু করা সম্ভব হবে না। বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে লেকে পানির প্রবাহ বাড়বে এবং তখন ধীরে ধীরে উৎপাদন সক্ষমতা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাই লেকের পানির স্তর স্বাভাবিক রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।