শতাব্দীর দীর্ঘতম সূর্যগ্রহণের অপেক্ষায় বিশ্ব

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

আগামী ২ আগস্ট ২০২৭ সালে পৃথিবী সাক্ষী হতে যাচ্ছে এক বিরল ও বিস্ময়কর মহাজাগতিক ঘটনার। ওই দিন সংঘটিত হবে ২১ শতকে স্থলভাগ থেকে দেখা সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, চাঁদ টানা প্রায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে আড়াল করে রাখবে, ফলে দিনের বেলাতেই নেমে আসবে গভীর অন্ধকার।

এই বিরল সূর্যগ্রহণকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানী, গবেষক এবং আকাশপ্রেমীরা এখন থেকেই এই মহাজাগতিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শতাব্দীর অন্যতম আলোচিত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা হতে যাচ্ছে এটি।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্রহণটির দীর্ঘস্থায়িত্বের পেছনে রয়েছে একটি বিশেষ মহাজাগতিক সমন্বয়। ওই সময় চাঁদ পৃথিবীর তুলনামূলক কাছাকাছি অবস্থানে থাকবে, ফলে আকাশে তাকে স্বাভাবিকের চেয়ে বড় দেখাবে। একই সময়ে পৃথিবী সূর্য থেকে অপেক্ষাকৃত দূরে, অর্থাৎ অ্যাফেলিয়নের কাছাকাছি অবস্থানে থাকবে। এর ফলে সূর্যকে কিছুটা ছোট দেখাবে। এই দুই প্রভাব একসঙ্গে কাজ করায় চাঁদ দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে রাখতে সক্ষম হবে।

সূর্যগ্রহণের কেন্দ্রীয় পথ আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল অতিক্রম করবে। স্পেন, জিব্রাল্টার, মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মিসর, সুদান, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও সোমালিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রহণটি সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ও পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে মিসরে। বিশেষ করে লুক্সর ও নিউ ভ্যালি অঞ্চলকে পর্যবেক্ষণের জন্য অন্যতম সেরা স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব এলাকায় প্রায় পুরো সময়জুড়ে আকাশ অন্ধকার হয়ে আসবে।

পূর্ণগ্রাস চলাকালে দিনের আলো হঠাৎ গোধূলির মতো ম্লান হয়ে যাবে, তাপমাত্রাও কিছুটা কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে আকাশে উজ্জ্বল গ্রহ ও নক্ষত্র দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। পর্যবেক্ষকরা সূর্যের করোনা, বেইলি’স বিডস এবং ডায়মন্ড রিংয়ের মতো দুর্লভ দৃশ্য দেখার সুযোগ পাবেন।

তবে নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পূর্ণগ্রাসের কয়েক মিনিট ছাড়া সূর্যগ্রহণের অন্য সব পর্যায়ে খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো বিপজ্জনক। এজন্য অবশ্যই অনুমোদিত সোলার ফিল্টার বা বিশেষ গ্রহণ-দর্শন চশমা ব্যবহার করতে হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বের প্রায় ৪০০ কোটির বেশি মানুষ আংশিক বা পূর্ণভাবে এই সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পাবেন। ফলে ২০২৭ সালের এই মহাজাগতিক ঘটনাটি ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ও বহুল আলোচিত সূর্যগ্রহণ হিসেবে স্থান করে নিতে যাচ্ছে।