নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ চালু

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাধীন মামলাগুলোর আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার (৭ জুন) আপিল বিভাগের এজলাসে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের প্রস্তাবের পর প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এ উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান আপিল নিষ্পত্তির বিলম্ব কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

তিনি বলেন, চাঞ্চল্যকর মামলার রায় হলেও অনেক সময় আপিল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়, ফলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তায় থাকেন। দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রুহুল কুদ্দুস কাজল শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সম্প্রতি আলোচিত এই মামলায় নিম্ন আদালতে রায় ঘোষণা হয়েছে এবং দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে হাইকোর্টে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তা চূড়ান্ত নয়।

তিনি আরও বলেন, বিচার দ্রুত সম্পন্ন না হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বার্তা সমাজে কার্যকরভাবে পৌঁছায় না। এজন্যই তিনি প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রধান বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো—বিশেষ করে শিশু রামিসা, আছিয়া ও রসু খাঁ-সংক্রান্ত মামলাগুলো—শুনানির জন্য হাইকোর্টে একটি নির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন করা হবে। এটি আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, এই বেঞ্চে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কোনো মুলতবি না চাওয়ার বিষয়ে আইন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিচার বিভাগীয় ছুটির মধ্যেও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় গতি আসবে এবং মানুষের আস্থা বাড়বে।

রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা এই উদ্যোগকে ‘মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে অপরাধীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং ন্যায়বিচারের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাবে। তিনি আরও বলেন, কেবল আলোচিত মামলাগুলো নয়, সব অপরাধের ক্ষেত্রেই দ্রুত তদন্ত, বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।