নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার এক দরিদ্র পরিবারের ১২ বছর বয়সী শিশু সোহাগীর জীবন এখন অসুস্থতা আর অনিশ্চয়তায় ঘেরা। অস্বাভাবিকভাবে ওজন বৃদ্ধি এবং দিনে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লিটার পানি পান করার কারণে তার স্বাভাবিক চলাফেরা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিনেও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেনি পরিবার। তবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি হাসপাতালেই শিশুটির বিনামূল্যে চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের তাতারপুর গ্রামের দিনমজুর হাফিজুল ইসলামের চার সন্তানের মধ্যে সবার ছোট সোহাগী। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, মাত্র এক বছর বয়স থেকে তার শারীরিক জটিলতা শুরু হয়। মায়ের বুকের দুধ ছাড়ার পর থেকেই পানির প্রতি তার অস্বাভাবিক আকর্ষণ দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে সেই প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে দিন-রাত মিলিয়ে সে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লিটার পানি পান করে।
অতিরিক্ত পানি পানের পাশাপাশি দ্রুত ওজন বাড়তে বাড়তে বর্তমানে তার ওজন ৮০ কেজিরও বেশি হয়েছে। এতে তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেছে এবং দুই পা বেঁকে যাওয়ায় হাঁটাচলায়ও সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থূলতার কারণে স্কুলে যাওয়া, দৌড়ঝাঁপ করা কিংবা সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করা তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সোহাগী জানায়, অতিরিক্ত ওজনের কারণে হাঁটতে খুব কষ্ট হয়। গরমের সময় কষ্ট আরও বেড়ে যায়। অন্য শিশুদের মতো খেলাধুলা করতে না পারায় সে মানসিকভাবেও কষ্ট পায়।
পরিবারের দাবি, স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসক ও হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে নেওয়া হলেও কোনো সমাধান মেলেনি। অনেক চিকিৎসক তাকে ঢাকা বা রাজশাহীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন মা হাসিনা বেগম। স্থানীয়দের মতে, সোহাগীর স্বাভাবিক খাবার গ্রহণের পরও অস্বাভাবিক পানি পান এবং দ্রুত ওজন বৃদ্ধিই তার শারীরিক অবস্থাকে জটিল করে তুলেছে। তারা দ্রুত চিকিৎসা সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নওগাঁর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শিশুটির গ্রোথ হরমোনজনিত সমস্যা বা মস্তিষ্কে টিউমারের মতো কোনো জটিলতা থাকতে পারে। তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সরকারি খরচে করা সম্ভব। মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা নওগাঁ সদর হাসপাতালে সোহাগীর বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এখন দ্রুত সেই আশ্বাস বাস্তবায়নের অপেক্ষায় পরিবার ও স্থানীয়রা। সবার প্রত্যাশা, যথাযথ চিকিৎসা ও সহযোগিতা পেলে সোহাগী আবারও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।