তপুর জোড়া গোলে ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ম্যাচ খেলতে নেমে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ-এর জোড়া গোলে স্বাগতিক সান মারিনো-কে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

শুক্রবার (৫ জুন) ফিফা প্রীতি ম্যাচে স্তাদিও অলিম্পিকো সেরাভালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধ ১-১ গোলে সমতায় শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে তপুর আরেকটি দুর্দান্ত গোলে জয় নিশ্চিত হয়।

এ ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলি-এর প্রথম দায়িত্ব পালন। নিজের অভিষেক ম্যাচেই জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেন এই জার্মান কোচ। শুরুতে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বেঞ্চে রাখলেও বিরতির পর কৌশলগত পরিবর্তন এনে দলের খেলায় নতুন গতি যোগ করেন তিনি।

ম্যাচের ১৯তম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত থেকে মোরছালিনের নিখুঁত ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান তপু বর্মণ। তবে ৩১তম মিনিটে স্বাগতিকদের হয়ে সমতা ফেরান নিকোলাস জাকোপেত্তি। এরপর উভয় দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও প্রথমার্ধে আর কোনো গোল হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। মাঝমাঠে দারুণ পাসিং ও বল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একাধিক সুযোগ সৃষ্টি করে দলটি। কোচ ডুলির পরিবর্তনগুলোও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে মাঠে।

ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে আসে নির্ধারক মুহূর্ত। ফ্রি-কিক থেকে সৃষ্ট আক্রমণে বল বিশ্বনাথ ঘোষের কাছে গেলে তার সাইড ভলি থেকে ভেসে আসা বলে অসাধারণ এক হেডে জাল খুঁজে নেন তপু বর্মণ। গোলের পর জার্সি খুলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। গ্যালারিতে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশি সমর্থকরাও আনন্দে ফেটে পড়েন।

শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। ইউরোপের মাটিতে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই জয় পাওয়ায় এটি বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে একটি বিশেষ মাইলফলক হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী হয়ে উঠেছেন সমর্থকরা।