‘থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন হতে পারে ১৬ ডিসেম্বর’

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাপানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আগামী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সরকার এর আগেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে তৃতীয় টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর মাধ্যমে যাত্রীসেবা, কার্গো পরিবহন এবং বিমান পরিচালনায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ব্রিফিংয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সার্বিক কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, জাতীয় পতাকাবাহী এ সংস্থায় বিদ্যমান অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা দূর করতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও আধুনিক করে গড়ে তোলার উদ্যোগ চলছে।

দেশের ক্রমবর্ধমান বিমান পরিবহন চাহিদার কথা উল্লেখ করে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে থাকা উড়োজাহাজ দেশের প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। তার মতে, বর্তমান বহরের পাশাপাশি দেশের চাহিদা পূরণে অন্তত ৪৭টি উড়োজাহাজ প্রয়োজন।

তিনি জানান, ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে, যার জন্য আনুমানিক ২ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। তবে আয় থেকে ধাপে ধাপে কিস্তির মাধ্যমে এই অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নতুন বোয়িং উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে প্রথমটি ২০৩১ সালে সরবরাহ পাওয়া যেতে পারে। বহর সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে বিমানসেবার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।