১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সমুদ্রেই গড়ে উঠবে ‘ভাসমান শহর’ 

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

সমুদ্রের বুকে এমন একটি শহর, যা কখনো স্থির থাকবে না—বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াবে বছরের পর বছর। শুনতে কল্পবিজ্ঞানের গল্প মনে হলেও, এমনই এক উচ্চাভিলাষী প্রকল্প নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আন্তর্জাতিক প্রকৌশল মহল। প্রকল্পটির নাম ‘ফ্রিডম শিপ’, যা বাস্তবায়িত হলে এটি হবে বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ভাসমান নগরী।

প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করা এই প্রকল্পের ধারণা প্রথম দেন প্রকৌশলী নরম্যান নিক্সন। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে তিনি সমুদ্রভিত্তিক একটি স্থায়ী নগর গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন। বর্তমানে প্রকল্পটি এগিয়ে নিচ্ছে ফ্রিডম ক্রুজ লাইন ইন্টারন্যাশনাল, যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রজার গুচ।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্রিডম শিপ হবে একটি বিশাল ভাসমান কাঠামো, যা কোনো নির্দিষ্ট দেশের বন্দরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে না। বরং আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচল করবে এবং প্রতি দুই থেকে তিন বছরে একবার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবে।

এই ভাসমান শহরে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবেন। এছাড়া থাকবে ২০ হাজার ক্রু সদস্য এবং একসঙ্গে ১০ হাজার অতিথিকে আতিথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা। আকারের দিক থেকে এটি বর্তমান বিশ্বের বৃহত্তম ক্রুজ শিপগুলোর তুলনায় কয়েক গুণ বড় হবে।

ফ্রিডম শিপে আধুনিক শহরের প্রায় সব সুবিধাই রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে থাকবে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, ব্যাংক, অফিস, গবেষণা কেন্দ্র, স্টেডিয়াম, শপিং মল, জাদুঘর, কনসার্ট হল, রেস্তোরাঁ এবং বিশাল সবুজ ইকো-পার্ক। অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের জন্য থাকবে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাও।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, জাহাজটির ছাদে নির্মাণ করা হবে একটি রানওয়ে ও একাধিক হেলিপ্যাড। ফলে ছোট উড়োজাহাজ এবং ব্যক্তিগত বিমান সরাসরি এখানে অবতরণ করতে পারবে।

তবে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে রয়েছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। বিশাল আকারের কারণে এটি কোনো প্রচলিত বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং সমুদ্রেই স্থায়ীভাবে অবস্থান করতে হবে। পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ও পরিচালন ব্যয়ও বড় প্রশ্ন হিসেবে সামনে এসেছে। এ কারণে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে ফ্রিডম শিপ ভবিষ্যতের নগরায়ণের ধারণাকেই বদলে দিতে পারে। তবে আপাতত এটি বাস্তবতার চেয়ে স্বপ্নের কাছাকাছিই রয়ে গেছে।