দীর্ঘদিনের জটিলতা, স্থানীয়দের আপত্তি এবং সীমানা নিয়ে বিরোধের অবসান ঘটিয়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীর বালুমহাল-১ এর সীমানা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এর ফলে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে পুনরায় বালু উত্তোলনের পথ সুগম হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ হাসান শান্তনুর নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি বিশেষ টিম লাউড়েরগড় সীমান্ত এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করে। পরিদর্শন শেষে ইজারাকৃত বালুমহালের নির্ধারিত সীমানা লাল পতাকা ও খুঁটি গেঁড়ে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়।
সীমানা নির্ধারণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবির লাউড়েরগড় ফাঁড়ির কোম্পানি কমান্ডার প্রদীপ চক্রবর্তী, উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন, তাহিরপুর থানা পুলিশের সদস্য, বালুমহালের ইজারাদারদের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা।
প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশকর্মী, নদীপারের বাসিন্দা ও স্থানীয় শ্রমিকরা। তাদের মতে, নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে দেওয়ায় এখন ইজারাদাররা ইচ্ছেমতো নদীর পাড় কেটে বা সীমানার বাইরে গিয়ে বালু উত্তোলন করতে পারবেন না। ফলে পরিবেশের ক্ষতি কমবে এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি নিয়ম মেনে বালু উত্তোলন নিশ্চিত করা গেলে যাদুকাটা নদী এবং আশপাশের হাওরাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় থাকবে। পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহে যুক্ত শ্রমিকরাও নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করতে পারবেন।
যাদুকাটা-১ বালুমহালের ইজারাদার মো. নাসির মিয়া বলেন, “প্রশাসন সীমানা চূড়ান্ত করে দেওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। সীমানা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে কয়েকদিন কাজ বন্ধ ছিল। এখন নির্ধারিত স্থান থেকে নিয়ম মেনে বালু উত্তোলন করতে পারব।”
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ইজারা দেওয়া মহালের বাইরে কোনো অবস্থাতেই বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই। মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কেউ নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে বালু উত্তোলন বা নদীর পাড় কাটার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপে যাদুকাটা নদীকে ঘিরে চলমান বিরোধের অবসান ঘটার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সুশৃঙ্খল বালু উত্তোলনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।