ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েও আবারও ধাক্কা খেয়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। সদ্য সমাপ্ত মে মাসে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে দেশের প্রধান রপ্তানি আয়ের এই খাতের আয়। এর প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের ওপরও। আলোচ্য মাসে পোশাক রপ্তানি প্রায় ৮ শতাংশ কমে যাওয়ায় দেশের মোট রপ্তানি আয়ও ৭ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে দেশের মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ দশমিক ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৪ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় কমেছে ৭ শতাংশেরও বেশি।
একই সময়ে দেশের তৈরি পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের মে মাসে এ খাতের আয় ছিল ৩ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরে পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ।
শুধু মাসিক হিসাবেই নয়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসেও রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৪৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ কম।
একই সময়ে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৩৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। ফলে খাতটিতে রপ্তানি আয় কমেছে ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার ওঠানামার কারণে পোশাক খাত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। যদিও টানা আট মাস রপ্তানি আয় কমার পর গত এপ্রিল মাসে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তবে মে মাসের পরিসংখ্যান সেই আশাবাদে নতুন করে ধাক্কা দিয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রপ্তানি খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বাজার বৈচিত্র্যকরণ, নতুন পণ্যের উন্নয়ন এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাতের এই মন্দা অর্থনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।