মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও দেড় বছর বয়সি ভাতিজাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ইউসুফ মোল্লাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার মিরপুর বেরিবাঁধ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১২টার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও দৌলতপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৩০ মে) রাতে দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের কাচারিপাড়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ইউসুফ মোল্লা তার বড় ভাই আব্দুস ছালামের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ভাবি আমেনা বেগম (২৮) এবং তার দেড় বছর বয়সি ছেলে আসওয়াদকে হত্যা করা হয়। হামলায় গুরুতর আহত হন আব্দুস ছালাম (৪০)।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরেন আব্দুস ছালাম। বাড়িতে পৌঁছানোর পর ছোট ভাই ইউসুফ তার ওপর হামলা চালান। এর আগে ঘরে ঢুকে ভাবি ও ভাতিজার ওপরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই মা-ছেলের মৃত্যু হয়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত আব্দুস ছালামকে উদ্ধার করে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি দা ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করে পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মানবেন্দ্র বালো জানান, হত্যার পরপরই অভিযুক্ত পালিয়ে যান। গোপন তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকার মিরপুর বেরিবাঁধ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার বলেন, নিহত আমেনার মা মিনা খাতুন বাদী হয়ে ইউসুফ মোল্লার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।