দেশে ব্যবসায়িক বিরোধ দ্রুত ও কম খরচে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে বিচার ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন এ কাঠামোর মাধ্যমে সাধারণ আদালতের দীর্ঘসূত্রতা ও মামলার জট এড়িয়ে কেবল বাণিজ্যিক বিষয়গুলোর নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত আদালত গঠন করা হবে। এতে অর্থনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস. এম. এরশাদুল আলম বলেন, সরকার আশা করছে এই আদালতগুলো বাণিজ্যিক বিরোধ দ্রুত ও কম খরচে নিষ্পত্তি নিশ্চিত করবে। রাজধানীতে দেশের বাণিজ্যিক বিচার ব্যবস্থার ওপর আয়োজিত এক সেমিনারের ফাঁকে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিক আদালত গঠনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নত হবে। এতে সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি আইনের শাসনের প্রতি আস্থা বাড়বে।
অতিরিক্ত সচিব জানান, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় কার্যকর অবস্থান নিতে এই আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, নতুন কাঠামোতে ব্যবসায়িক বিরোধগুলোকে সাধারণ মামলার মতো না দেখে অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে। এতে বিচার ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আসবে।
আইনের ৩ নম্বর ধারার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাণিজ্যিক আইন ও জটিল ব্যবসায়িক বিরোধ বিষয়ে বিশেষ জ্ঞানসম্পন্ন বিচারকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে শুরু থেকেই বিশেষজ্ঞ বিচার নিশ্চিত করা যায়। তিনি আরও জানান, আদালতগুলো আধুনিক ‘স্যুট ম্যানেজমেন্ট হিয়ারিং’ পদ্ধতি অনুসরণ করবে, যেখানে মামলা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।
তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ই-বন্ডসহ বিদ্যমান ডিজিটাল ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিক আদালতগুলোকে সম্পূর্ণ আইসিটি-সমর্থিত করা হবে। সরকারের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।