রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের জন্য চিরস্থায়ী অনুপ্রেরণার উৎস হবে বলে মন্তব্য করেছেন। ৩০ মে, শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে ২৯ মে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জিয়ার সাদাসিধে ও নির্মোহ জীবন, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, প্রশ্নাতীত সততা এবং বাস্তবমুখী ও কর্মোদ্যমী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর অবদান জনগণের মনে চিরজাগ্রত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শহীদ জিয়ার দেশপ্রেম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর নীতি, ন্যায় ও সুবিচারের প্রতি অটল মনোভাব এবং স্বনির্ভর উন্নয়নের ধারণা নতুন প্রজন্মকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।
রাষ্ট্রপতি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি নির্মমভাবে শহীদ হন। তিনি জিয়ার অসামান্য অবদানকে স্বাধীনতার ঘোষক, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানায়ক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম প্রহরে জিয়া পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই শুরু করার আহ্বান জানান। তার নেতৃত্ব ও আহ্বান জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জিয়া দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং স্বনির্ভরতা অর্জনে তিনি যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল উৎপাদনমুখী ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের রূপরেখা।
এছাড়া রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা এবং বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। স্বল্প সময় থাকলেও তাঁর দেশপ্রেম, ন্যায়পরায়ণতা ও দূরদর্শিতা দেশের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।