আজ পবিত্র হজ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

আজ পবিত্র হজ। সৌদি আরবে ৯ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৬ মে) আরাফাতের ময়দানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। এর আগে সোমবার (২৫ মে) মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরের তাঁবুর নগরী মিনায় পৌঁছেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো হজযাত্রী।

মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পর মিনায় অবস্থানরত হাজিরা রওনা হন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে। সেখানে লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে—
“লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।”

এর বাংলা অর্থ—“হে আল্লাহ! আপনার ডাকে সাড়া দিয়ে আমি হাজির। আপনার কোনো শরিক নেই। সমস্ত প্রশংসা, নেয়ামত ও সার্বভৌমত্ব একমাত্র আপনারই। আপনার কোনো অংশীদার নেই।”

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম হলো হজ। আর হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজগুলোর একটি হচ্ছে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান। এটিকেই হজের কেন্দ্রীয় আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

হজযাত্রীরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা প্রদান করা হবে। এরপর এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন হাজিরা। নামাজ শেষে তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেবেন।

সূর্যাস্তের পর হাজিরারা মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই রওনা হবেন মুজদালিফার উদ্দেশে। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।

১০ জিলহজ মিনায় ফিরে হাজিরা ধারাবাহিকভাবে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা এবং পরে মক্কায় গিয়ে তাওয়াফে জিয়ারত সম্পন্ন করবেন। পরবর্তী দিনগুলোতেও মিনায় অবস্থান করে তিন জামারাতে পাথর নিক্ষেপের আনুষ্ঠানিকতা পালন করবেন তারা। সবশেষে বিদায়ী তাওয়াফের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।

ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হলে শয়তান বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন তিনি শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। সেই ঘটনার স্মরণেই হাজিরা জামারাতে প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করেন।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের হজে বিশ্বের ১৬০টিরও বেশি দেশ থেকে মুসল্লিরা অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৮ হাজারের বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। তাদের জন্য মিনায় ও আরাফাতে বিশেষ ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাসেবা এবং হজ মিশনের তদারকি কার্যক্রম চালু রয়েছে।

এদিকে, সৌদিতে তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজিরা। সোমবার দেশটিতে গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গত বছরের ভয়াবহ তাপপ্রবাহের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার ৪০টির বেশি সরকারি সংস্থা ও প্রায় আড়াই লাখ কর্মকর্তা হজ ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, ড্রোন ক্যামেরা ও তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে নিরাপত্তা ও সেবার কাজে।