রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার চার্জশিটে উঠে এলো যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

ঢাকার পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস তথ্য উঠে এসেছে আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়।

রবিবার (২৪ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক মো. ওহিদুজ্জামান। পরে মামলাটি ঢাকার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য পাঠানো হয়।

চার্জশিট অনুযায়ী, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন এবং পরে মরদেহ গুমের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সহযোগিতার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে আরও জানা যায়, স্বপ্না আক্তার সোহেল রানার দ্বিতীয় স্ত্রী। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতার মধ্য দিয়ে তাদের বিয়ে হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় আড়াই মাস আগে অটোরিকশা মেকানিক সোহেল রানা পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের একটি ফ্ল্যাটে বাসা ভাড়া নেন। ওই ফ্ল্যাটের একটি অংশে তিনি ও তার স্ত্রী বসবাস করতেন এবং বাকি কক্ষগুলোতে অন্য ভাড়াটিয়ারা থাকতেন।

ঘটনার দিন সকালে শিশুটি বাসার সামনে গেলে তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে ডেকে নেয় সোহেল রানা। এরপর সেখানে তাকে নির্যাতন করা হয় এবং পরে হত্যার ঘটনা ঘটে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করা হয় এবং ঘটনাটি আড়াল করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার বাসার সামনে তার একটি জুতা দেখতে পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে এবং পরে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভাঙার চেষ্টা করা হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, ঘটনাটি গোপন করতে অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি এখন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।