নারায়ণগঞ্জে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি ঘটনায় তিন শিশুকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৩ মে) সকাল ১১টার দিকে ফতুল্লা এলাকায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে আনোয়ার (৪৮) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগে জানা যায়, শিশুটির বাবা-মা দুজনই গার্মেন্টসকর্মী হওয়ায় তারা কর্মস্থলে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি মোবাইলে চার্জ দেওয়ার কথা বলে শিশুর ঘরে প্রবেশ করে। পরে শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
শিশুটির মা সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আনোয়ারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
একই এলাকায় ওই দিন সকালে ১১ বছর বয়সী আরেক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে নাজির হোসেন (৩৬) নামের এক ব্যক্তি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায়। তবে শিশুটি সাহসিকতার সঙ্গে বাধা দিয়ে তাকে কামড়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। পরে স্থানীয়রা নাজির হোসেনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে।
অন্যদিকে রোববার সকালে একই এলাকায় ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে জহির শেখ (৭৮) নামের এক বৃদ্ধ ধর্ষণের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটি দোকানে গেলে তাকে ফুসলিয়ে নিয়ে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, বিচারহীনতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে ধর্ষণের ঘটনাগুলি বেড়ে গিয়েছে। বিশেষভাবে দেশব্যাপী এ বিষয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হওয়াতে ছোট ছোট বিষয়গুলো গণমাধ্যমে চলে আসছে বলে আমাদের কাছে সংখ্যা বেশি মনে হচ্ছে, কিন্তু এটিই বাস্তব চিত্র।
ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মাহাবুবুর আলম বলেন, প্রথম ঘটনায় নির্যাতিত শিশুকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। বাকি দুটি ঘটনায়ই ভুক্তভোগীর অভিভাবকরা থানায় রয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান।