চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার এরশাদপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হৃদয় হোসেন (২৮) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হৃদয় মৃত খন্দকার এনামুল হকের ছেলে। তিনি পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এরশাদপুর গ্রামের মক্তবপাড়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে হৃদয় হোসেন ও তার পার্টনার ইমরান হোসেন রতন দুই বছরের জন্য ৩০ হাজার টাকায় একটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন। সম্প্রতি লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত দুইদিন ধরে তারা পুকুরের পানি সেচ দিয়ে মাছ ধরার কাজ করছিলেন।

শুক্রবার সকালে পুকুরে সামান্য পানি অবশিষ্ট থাকায় মোটরের সাহায্যে শেষবারের মতো পানি সেচের কাজ চলছিল। এসময় মোটরে পানি না আসায় হৃদয় মোটরটি উঁচু করে ধরার চেষ্টা করেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগে আগুনের ফুলকি দেখা দিলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

নিহতের পার্টনার ইমরান হোসেন রতন বলেন, “হৃদয় আমাকে বলেছিল, ‘তোরা মাছ বিক্রি কর, আমি বাকি পানি সরিয়ে দিচ্ছি।’ কিছুক্ষণ পর মোটরে সমস্যা দেখা দিলে সে সেটি ঠিক করার চেষ্টা করে। হঠাৎ বিকট শব্দ ও আগুনের ফুলকি দেখা যায়। এরপর হৃদয় চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।” তিনি আরও জানান, দ্রুত হৃদয়কে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সময় পুকুরের পাশে মাছ দেখতে ও কিনতে স্থানীয় অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। হৃদয়ের চিৎকার শুনে সবাই ছুটে এলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হৃদয় ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও মানবিক একজন তরুণ। সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় এই যুবক মানুষের বিপদে-আপদে সবসময় পাশে দাঁড়াতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা গেছে, মাত্র দুই মাস আগে হৃদয়ের বাবা খন্দকার এনামুল হক মারা যান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন হৃদয়। বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই পরিবারের ওপর নেমে এলো আরেকটি বড় বিপর্যয়। হৃদয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও স্থানীয়দের মাঝে শোকের মাতম শুরু হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।