মার্কিন প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্ক সম্প্রতি চীনের ‘চংকিং ইস্ট’ রেলওয়ে স্টেশনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মেঝের আয়তনের দিক থেকে এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেলওয়ে স্টেশন হিসেবে পরিচিত।
সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে চীন সফর করেন ইলন মাস্ক। সফরকালে তিনি এই বিশাল অবকাঠামোর ভিডিও শেয়ার করেন, যা ঘিরে প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের বৃহৎ শহর চংকিং-এ অবস্থিত এই রেলওয়ে স্টেশনটি ২০২৫ সালের মে মাসে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক গুরুত্বে অন্যতম বৃহৎ এই শহরের পরিবহন চাহিদা পূরণ এবং উত্তর স্টেশনের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যেই এটি নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রায় ১.২২ মিলিয়ন বর্গমিটার আয়তনের এই বহুমুখী ট্রানজিট কমপ্লেক্সে রয়েছে ১৫টি প্ল্যাটফর্ম ও ২৯টি ট্র্যাক, যা তিনটি রেল ইয়ার্ডে বিভক্ত। পিক আওয়ারে এটি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬ হাজার যাত্রী পরিচালনা করতে সক্ষম। আট তলা বিশিষ্ট এই স্টেশনে হাই-স্পিড রেল, সাধারণ রেল, মনোরেল, বাস ও ট্যাক্সি সেবার সমন্বিত সুবিধা রাখা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানায়, ২০২২ সালের মে মাসে নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর মাত্র ৩৮ মাসে এই প্রকল্প সম্পন্ন হয়, যেখানে ব্যাপকভাবে রোবটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। লেজার-গাইডেড স্ক্রিড রোবট, গ্লাস ইনস্টলেশন রোবট, ওয়েল্ডিং রোবট এবং ২৪ ঘণ্টা টহল দেওয়া নিরাপত্তা রোবট পুরো নির্মাণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব প্রযুক্তির ফলে নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ কমে আসে, কাজের দক্ষতা তিন গুণ বৃদ্ধি পায় এবং দুর্ঘটনার হার প্রায় ৯০ শতাংশ হ্রাস পায়। কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রকল্প কেবল একটি অবকাঠামো নয়, বরং রোবটিক্স ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে বড় পরিসরের নির্মাণকাজে চীনের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।