বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মিথ্যা ও অপকর্মের রাজনীতি করে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, দেশে একটি গোষ্ঠী অপকর্ম করে এবং পরে সেই দায় সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে। তার দাবি, জামায়াত ইসলামের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং প্রকৃত অর্থে ইসলামের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফার্মেসি অ্যাসোসিয়েশনের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুদু বলেন, জামায়াত এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি, যাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ১৯৪৭ সালে তারা পাকিস্তানপন্থী অবস্থানে ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময়ও তারা পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তারা মুখোশ পরে দেশের স্বার্থের কথা বলার চেষ্টা করছে, তবে জনগণ এখন অনেক সচেতন। দেশের মানুষ জানে কারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এবং কারা বিপক্ষ ছিল।
অনুষ্ঠানে তিনি স্বাস্থ্যখাত নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, আগের সরকার হামসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে কিছু রোগ আবার ফিরে এসেছে। বর্তমান সরকার এখন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফার্মাসিস্টদের ভূমিকার প্রশংসা করে দুদু বলেন, আগে অনেক ফার্মেসি নির্দিষ্ট সময়ের পর বন্ধ হয়ে যেত, কিন্তু এখন অনেক প্রতিষ্ঠান সারারাত সেবা দিচ্ছে, যা প্রশংসনীয়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অতীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৮ বছরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তার দায় দল নেবে না এবং অপরাধীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফার্মেসি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. এবি সিদ্দিকী হাওলাদার। আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সুকোমল বড়ুয়া, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম এবং ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।