কমে যাচ্ছে মশলার দাম

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে মসলা জাতীয় পণ্যের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের বাজারে কোনো ধরনের মসলার সংকট নেই। বরং সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক মসলার দাম আগের তুলনায় কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী জানান, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে জিরা, আদা, সাদা এলাচসহ বিভিন্ন মসলা আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে আমদানি করা পণ্য ঢাকা, বগুড়া, পাবনা, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

বুধবার (২০ মে) সকালে হিলি স্থলবন্দরের বাজারে দেখা গেছে, পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলোতে মসলার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা এখানে এসে মসলা কিনছেন বলে জানা গেছে।

হিলি কাস্টমস বিভাগের সহকারী কমিশনার এস এম সাইফুজ্জামান রাজীব জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত শুধু জিরা, ছোট এলাচ, কাজুবাদাম ও কিসমিস মিলিয়ে ২৬ হাজার মেট্রিক টনের বেশি মসলা ভারত থেকে এই স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে জিরা ও ছোট এলাচের পরিমাণই প্রায় সাড়ে ৭ হাজার মেট্রিক টন।

স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সাধারণত কোরবানির ঈদের আগে মসলার দাম বাড়লেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। সরকারের নজরদারি ও পর্যাপ্ত আমদানির কারণে দাম কমেছে। ছোট এলাচের দাম কেজিতে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত কমে বর্তমানে ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর ছিল ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার ৮০০ টাকা।

একইভাবে জিরার দাম দুই সপ্তাহ আগে ৬৫০ টাকা থাকলেও বর্তমানে নেমে এসেছে ৫৪০ থেকে ৫৬০ টাকায়। এছাড়া কালো এলাচ ৩ হাজার টাকা থেকে কমে ২ হাজার ৪০০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং গোলমরিচ ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে দাম কমায় বেচাকেনাও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বগুড়া থেকে আসা ক্রেতা জয়নাল আবেদীন বলেন, কম দামে ভালো মানের মসলা কিনতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট।

এদিকে হিলি কাস্টমস বিভাগের রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল আজম জানিয়েছেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং দ্রুত পণ্য খালাসে কাস্টমস বিভাগ সহযোগিতা করছে। তিনি আরও বলেন, বাজারে মসলার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।