ছাত্রীর বাড়িতে মিলল গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দি মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক ছাত্রীর বাড়ি থেকে মরিয়ম বেগম (৫৫) নামে এক গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক দম্পতিসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে সদর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মরিয়ম বেগম নামোশংকরবাটি উজ্জ্বলপাড়া এলাকার মোসাদ্দেক হোসেনের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সুমি খাতুনের পঞ্চম শ্রেণির মেয়েকে নিয়মিত পড়াতে যেতেন মরিয়ম বেগম। সোমবার (১৮ মে) সকালে তিনি পড়াতে গিয়ে আর নিজ বাড়িতে ফেরেননি। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ গিয়ে ওই বাড়ি থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহতের স্বামী মোসাদ্দেক হোসেন জানান, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তিনি তখন বলেছিলেন, “বাড়ি আসছি, এসে রান্না করব।” এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানায়, মরদেহের মাথা ও ঠোঁটে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কানের দুল ছেঁড়া অবস্থায় ছিল। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত চলছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত সুমি খাতুনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই প্রতারণা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো যাচাই করছে পুলিশ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, সুমি খাতুন, তার স্বামী রুবেল এবং স্থানীয় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী দীপক চন্দ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এদিকে পুলিশ ও ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত চালাচ্ছে।