ভারতের লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়–এর এক ছাত্রীকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন হয়রানির অভিযোগে সহকারী অধ্যাপক পরমজিৎ সিং–কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার প্রকাশিত এনডিটিভির–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত পরমজিৎ সিং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি এক নারী শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে চাপ দিতেন।
ঘটনাটি সামনে আসে একটি ফোনালাপের অডিও প্রকাশের পর। সেখানে অধ্যাপককে বলতে শোনা যায়, “ডার্লিং, তোমার জন্য দুটি প্রশ্নপত্র জোগাড় করেছি। কবে দেখা করতে আসবে?” জবাবে শিক্ষার্থী জানান, তার আর প্রশ্নপত্রের প্রয়োজন নেই, কারণ তিনি পড়াশোনা শেষ করেছেন।
তবে এরপরও অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে পরীক্ষার আগে দেখা করার জন্য চাপ দিতে থাকেন বলে অভিযোগ ওঠে। অডিওর একপর্যায়ে ছাত্রী অভিযোগ করেন, তাকে আবারও শারীরিকভাবে হেনস্তার উদ্দেশ্যে ডাকা হচ্ছে। পরে প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের ওই বিএসসি শিক্ষার্থী দুটি অডিও ক্লিপ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেন। এর ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জে পি সাইনি অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযুক্ত অধ্যাপককে আটক করেছে। যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের “অভ্যন্তরীণ রাজনীতির” কারণে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে। সংগঠনটির লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি জয় শ্রীবাস্তব অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো অভিযোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত শিক্ষক, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে।