প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের জরুরি নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির খাবার বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, গাফিলতি বা শৈথিল্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

শনিবার (১৬ মে) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য এ সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা জারি করে। মন্ত্রণালয়ের গত ১৩ মে জারি করা এক অফিস আদেশের আলোকে এই নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পচা বনরুটি, নষ্ট ডিম এবং আকারে ছোট ও পচা কলা বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের খাবার গ্রহণ ও বিতরণের আগে কঠোরভাবে খাদ্যের মান যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের আগে খাবারের মান ও পরিমাণ নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বনরুটি অবশ্যই তাজা, নরম ও সঠিকভাবে মোড়কজাত হতে হবে। প্যাকেটে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ থাকতে হবে এবং ওজন ১২০ গ্রাম নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ফাঙ্গাসমুক্ত ও অক্ষত প্যাকেজিং নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ডিমের ক্ষেত্রে তা ফাটা বা দুর্গন্ধযুক্ত কি না পরীক্ষা করতে হবে। কলা হতে হবে দাগ ও পোকামুক্ত। অতিরিক্ত পাকা বা পচা কলা কোনোভাবেই গ্রহণ করা যাবে না। এছাড়া ইউএইচটি মিল্ক ও ফর্টিফাইড বিস্কুটের প্যাকেট অক্ষত থাকা এবং মেয়াদ উল্লেখ আছে কি না তা যাচাই করতে বলা হয়েছে।

খাবার যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য বিদ্যালয় পর্যায়ে উপযুক্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে খাবার গ্রহণ ও বিতরণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, নিম্নমানের বা ত্রুটিপূর্ণ খাবার কোনোভাবেই গ্রহণ করা যাবে না। যদি কোনো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মানহীন খাবার সরবরাহ করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।