জরুরি সেবা ৯৯৯: মোবাইল রিচার্জসহ যেসব আবদার করা হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

দেশের মানুষের আস্থা ও নির্ভরতার অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯। দুর্ঘটনা বা যে কোনো সংকটময় মুহূর্তে দ্রুত সহায়তা পেতে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবা পৌঁছে দিচ্ছে এই নম্বর। দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে ২৪ ঘণ্টা কল করলেই মিলছে সেবা, যা পরিচালিত হচ্ছে রাজধানীর আব্দুল গণি রোডের পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ এই সেবাটি এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে অপ্রয়োজনীয় ও ভুয়া কলের কারণে। সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট কলের অর্ধেকের বেশি কলই প্রকৃত জরুরি সহায়তার জন্য নয়। এতে প্রকৃত বিপদগ্রস্ত মানুষের সেবা পেতে বিলম্ব হচ্ছে এবং কল সেন্টারের ওপর চাপ বাড়ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর চালুর পর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৯৯৯ নম্বরে মোট কল এসেছে ৭ কোটি ১১ লাখের বেশি। এর মধ্যে সেবা প্রদান করা হয়েছে ৩ কোটি ১৭ লাখের কিছু বেশি কলে, যা মোট কলের প্রায় ৪৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। বিপরীতে ৫৫ শতাংশের বেশি কল ছিল অপ্রয়োজনীয়।

তথ্য অনুযায়ী, প্রকৃত জরুরি কল বা ‘ইমার্জেন্সি কল ফর সার্ভিস’ ছিল ২৬ লাখের বেশি। এর মধ্যে পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে ২২ লাখের বেশি ঘটনায়, ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা চাওয়া হয়েছে ২ লাখের বেশি এবং অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন হয়েছে ২ লাখের বেশি ঘটনায়।

অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক কল ছিল অপ্রয়োজনীয়—ফাঁকা কল, মিসড কল ও প্রাঙ্ক কল মিলিয়ে কোটি ছাড়িয়েছে। অনেক সময় কল করার পর কেউ কথা বলেন না, আবার অনেকে মজা করার উদ্দেশ্যে ভুয়া তথ্য দেন। এমনকি রিচার্জ চাওয়া বা ব্যক্তিগত সহায়তার আবেদন নিয়েও কল আসে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

৯৯৯-এর কলটেকার রতন হোসেন জানান, একবার সিরাজগঞ্জে আগুন লাগার ভুয়া খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস পাঠানো হয়েছিল, পরে জানা যায় ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এমন ভুয়া কলের কারণে জরুরি সেবায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

জাতীয় জরুরি সেবার গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ার সাত্তার বলেন, আগে প্রায় ৭০–৮০ শতাংশ কলই অপ্রয়োজনীয় ছিল, এখন তা কমে প্রায় ৫০ শতাংশে এসেছে। তবে এখনও অনেকেই অপ্রাসঙ্গিক কারণে কল করেন, এজন্য নম্বর ব্লক করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আইন অনুযায়ী, অযৌক্তিক ও বিরক্তিকর কল শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১-এর ৭০ ধারায় এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা বা ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে এর প্রয়োগ সীমিত বলেও জানা গেছে।

৯৯৯-এর প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মহিউল ইসলাম বলেন, অপ্রয়োজনীয় কলের কারণে জরুরি সেবায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গড়ে প্রায় দুই মিনিট পর্যন্ত দেরি হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। অনেক সময় কলাররা অশালীন আচরণও করেন, যা কর্মীদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কেবল একটি ফোন নম্বর নয়, এটি মানুষের জীবনরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই এই সেবাকে কার্যকর রাখতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভুয়া ও অপ্রয়োজনীয় কল বন্ধ করা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।