অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক ম্যান্ডেট না থাকাই ছিল বড় সীমাবদ্ধতা: সাবেক অর্থ উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল রাজনৈতিক ‘ম্যান্ডেটের’ অভাব। শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তি না থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কাঙ্ক্ষিত গতিতে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ ও ডিবিএ প্রোগ্রামের মোট ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের অভাব। আমাদের স্ট্রেন্থ ছিল না, ম্যান্ডেটও ছিল না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত গতি আনা সম্ভব হয়নি।”

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সে সময় নতুন সংস্কার চালুর চেয়ে ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করাই ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, “আমি এখানে দুটি শব্দ ব্যবহার করি—রিপেয়ার ও রিফর্ম। আগে আমাদের রিপেয়ার করতে হয়েছে, পরে রিফর্ম।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থনীতি ও প্রশাসনের বিভিন্ন খাতে ভিত্তিগত কিছু সংস্কার করা হলেও পরিস্থিতি সামাল দিতেই সরকারের বড় অংশের মনোযোগ ব্যয় হয়েছে।

অর্থনীতির প্রায় সব খাতে অস্থিরতা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজার ও রাজস্ব প্রশাসনসহ বিভিন্ন খাতে সংকট ছিল প্রকট। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গিয়েছিল এবং চলতি হিসাব ও সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্য নেতিবাচক অবস্থায় ছিল।

তিনি আরও বলেন, “অনেকে দ্রুত পরিবর্তন দেখতে চান, কিন্তু অর্থনীতির গভীর সংকট রাতারাতি সমাধান করা যায় না। তখন পরিস্থিতি এমন ছিল যে আগে অর্থনীতিকে ‘খাদের কিনারা’ থেকে ফেরাতে হয়েছে।”

সালেহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, দুর্বল আইন ও সুশাসনের অভাব দেশের উন্নয়নের বড় বাধা। তিনি বলেন, “খারাপ আইন রেখে ভালো ফল আশা করা যায় না।” শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি খাতেও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনও অনেক সম্ভাবনাময় দেশ। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে সুশাসন, দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একই ধরনের অবস্থা থেকে শুরু করেও দেশ দুটি অনেক দূর এগিয়েছে, বাংলাদেশও চাইলে তা পারবে।

সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বে টিকে থাকতে হলে গভীর জ্ঞান, আধুনিক দক্ষতা এবং নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।