‘হানিমুন’ করতে প্রতিবছর কানাডায় যায় প্রায় দেড় লাখ সাপ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

কোনো রাস্তায় হঠাৎ একটি সাপ দেখলেই অধিকাংশ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সেখানে একসঙ্গে হাজার হাজার সাপের নড়াচড়া দেখার অভিজ্ঞতা কেমন হতে পারে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। অথচ পৃথিবীতে এমন একটি জায়গা রয়েছে, যেখানে প্রতিবছর লাখো সাপের মিলনমেলা দেখতে ভিড় করেন হাজারো পর্যটক ও গবেষক।

কানাডার ম্যানিটোবা প্রদেশের ছোট্ট শহর নারসিস এখন বিশ্বজুড়ে পরিচিত ‘সাপের হানিমুন স্পট’ হিসেবে। প্রতি বসন্তে এখানে জড়ো হয় ৭৫ হাজারেরও বেশি লাল ডোরাকাটা ইস্টার্ন গার্টার সাপ। কখনও কখনও সেই সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়ে যায় বলেও জানিয়েছেন গবেষকেরা।

দীর্ঘ শীত শেষে মার্চ থেকে জুনের মধ্যে শুরু হয় এই বিরল প্রাকৃতিক আয়োজন। শীতের সময় সাপগুলো ভূগর্ভস্থ চুনাপাথরের গুহায় আশ্রয় নেয়। আবহাওয়া উষ্ণ হতে শুরু করলে প্রথমে বেরিয়ে আসে পুরুষ সাপগুলো। এরপর স্ত্রী সাপের সন্ধানে তারা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

স্ত্রী সাপ বের হওয়ার পর দেখা যায় অবিশ্বাস্য এক দৃশ্য। শত শত পুরুষ সাপ একটি স্ত্রী সাপকে ঘিরে ধরে মিলনের চেষ্টা চালায়। বিজ্ঞানীদের ভাষায় এই আচরণকে বলা হয় “মেটিং বল”। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, মাটির ওপর বিশাল কোনো জীবন্ত গোলক নড়ছে।

প্রতিবছর এই দৃশ্য দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জীববিজ্ঞানী, গবেষক ও প্রকৃতিপ্রেমীরা নারসিসে ভিড় করেন। কাছ থেকে এত বিপুলসংখ্যক সাপের প্রজনন আচরণ পর্যবেক্ষণের সুযোগ পৃথিবীতে খুব কম জায়গাতেই রয়েছে।

তবে এই সাপসমাবেশ ঘিরে উদ্বেগও রয়েছে। নারসিস এলাকার পাশ দিয়ে যাওয়া মহাসড়কে একসময় বিপুলসংখ্যক সাপ যানবাহনের চাপায় মারা যেত। পরে পরিবেশবিদেরা সাপগুলোর নিরাপদ চলাচলের জন্য সড়কের নিচে বিশেষ টানেল ও সুরক্ষা বেড়া নির্মাণ করেন। এতে দুর্ঘটনার হার অনেকটাই কমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারসিসের এই সাপ সমাবেশ শুধু বিরল প্রাকৃতিক ঘটনাই নয়, বরং জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্রের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে এটি সাপের আচরণ, প্রজনন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নিয়ে গবেষণায় নতুন নতুন তথ্য দিচ্ছে।