দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা পদ্মা সেতু চালুর প্রায় চার বছর পর এবার মোবাইল গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর আসতে যাচ্ছে। আসন্ন জাতীয় বাজেটে মোবাইল সেবায় আরোপিত এক শতাংশ সারচার্জ প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে সিম করও ৩০০ টাকা থেকে কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০১৬ সালের মার্চে পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়নের জন্য মোবাইল সেবার ওপর এক শতাংশ সারচার্জ আরোপ করা হয়। পরে ২০২২ সালে সেতুটি চালু হলেও এখন পর্যন্ত দেশের সাড়ে ১৮ কোটির বেশি মোবাইল সংযোগধারী গ্রাহক এই অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করে আসছেন। বর্তমানে প্রতি ১০০ টাকা রিচার্জে একজন গ্রাহক প্রকৃতপক্ষে সেবা পাচ্ছেন মাত্র ৫৮ টাকার। বাকি অর্থ চলে যাচ্ছে বিভিন্ন কর, ভ্যাট ও শুল্ক বাবদ।
বর্তমানে মোবাইল সেবায় ২৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং কার্যকরভাবে প্রায় ১৮ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয় গ্রাহকদের। এছাড়া নতুন সিম কেনা বা রিপ্লেসমেন্টের ক্ষেত্রেও ৩০০ টাকা কর গুণতে হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই কলরেট ও ইন্টারনেট খরচ কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যবহারকারীরা।
টেলিযোগাযোগ খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রস্তাবিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে গত ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মোবাইল খাতে করের চাপ কমবে। মোবাইল অপারেটরদের দাবি, গত এক দশকে তারা সরকারকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে। এর মধ্যে শুধু সারচার্জ থেকেই আদায় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতারাও গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়াতে পাঁচ শতাংশ ভ্যাট শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে দেশে চারটি মোবাইল অপারেটর এবং আড়াই হাজারের বেশি ব্রডব্যান্ড প্রতিষ্ঠান সেবা দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, “আমরা ভোক্তার কাছ থেকে ৩৮ শতাংশ ট্যাক্স নিচ্ছি, আবার অনেক কোম্পানির কাছ থেকে ২ শতাংশ বা ৪ শতাংশ নিচ্ছি—এটা ঠিক না।” সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত কর ছাড় কার্যকর হলে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবার খরচ কমার পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে।