দর্জির মেয়ের ইতিহাস গড়া সাফল্য, এমবিবিএসে পেলেন ১৭ স্বর্ণপদক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

অভাব আর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বেড়ে ওঠা পাকিস্তানের হরিপুরের তরুণী কান্দিল মুর্তজা এবার গড়েছেন অনন্য ইতিহাস। দর্জি বাবার সীমিত আয়ের পরিবার থেকে উঠে এসে খাইবার গার্লস মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস প্রোগ্রামে রেকর্ডসংখ্যক ১৭টি স্বর্ণপদক অর্জন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কান্দিলের অসাধারণ একাডেমিক সাফল্যে মুগ্ধ হয়ে যায় পুরো মিলনায়তন। একের পর এক স্বর্ণপদক যখন তার গলায় পরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তখন করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে অতিথিরা কান্দিলের হাতে পদক তুলে দিচ্ছেন এবং পাশে দাঁড়িয়ে আছেন তার বাবা। দীর্ঘদিন সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালানো সেই বাবার চোখে তখন আনন্দ ও গর্বের অশ্রু।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে এর আগে কোনো শিক্ষার্থী এত বেশি স্বর্ণপদক অর্জন করতে পারেননি। একই অনুষ্ঠানে আরও কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে মুকাদ্দাস পেয়েছেন ১০টি এবং সাবিহ অর্জন করেছেন ৭টি স্বর্ণপদক।

গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কান্দিলের বাবা জানান, পরিবারে সবসময় শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কান্দিলের এক বোন বর্তমানে খাইবার মেডিকেল কলেজে অধ্যয়ন করছেন। আরেক বোন ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সিতে (এফআইএ) গ্রেড-১৭ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। এছাড়া পরিবারের আরেক সদস্য পিএইচডি সম্পন্ন করে ইসলামাবাদে চাকরি করছেন এবং একমাত্র ভাই একজন গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার।

কান্দিল মুর্তজার এই সাফল্য ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই এটিকে শুধু একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে নয়, বরং একটি সংগ্রামী পরিবারের স্বপ্নপূরণের অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প হিসেবে দেখছেন।

শিক্ষাজীবনে অধ্যবসায়, পারিবারিক সমর্থন এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব, কান্দিল মুর্তজা তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।