অটিজম আক্রান্ত শিশু ও ব্যক্তিদের সু-চিকিৎসা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। একই সঙ্গে তাদের সমাজের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অটিজম কোনো রোগ নয়, এটি একটি জন্মগত নিউরোলজিক্যাল অবস্থা। তাই অটিজম আক্রান্ত শিশু ও ব্যক্তিদের বিশেষ সক্ষম হিসেবে বিবেচনা করে সরকার তাদের উন্নয়নে কাজ করছে।
তিনি বলেন, অটিজম আক্রান্ত শিশুরা সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি বিশেষ শিক্ষা, ফিজিওথেরাপি, প্যারেন্ট কাউন্সেলিং এবং বিভিন্ন সহায়ক সেবা পাচ্ছে। পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে তুলতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, চলমান শিক্ষাব্যবস্থায় বিশেষ শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮০০ জন শিক্ষক এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২২০ জন শিক্ষককে অটিজম বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আরও কার্যকরভাবে বিশেষ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, দৈনন্দিন জীবনযাপন দক্ষতা (ADL) উন্নয়নের জন্য চলতি অর্থবছরে ৫০০ জন শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যও বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে, যাতে অটিজম সেবা আরও মানসম্মত হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১৪টি ‘অটিজম ও ইনডিভিজুয়াল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ কার্যকর রয়েছে। এসব কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি ব্যক্তি সেবা গ্রহণ করেছেন এবং ১২ লাখের বেশি সেবা প্রদান করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অটিজম আক্রান্ত শিশুদের পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায়ও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিবারগুলোর জন্য কাউন্সেলিং ও মানসিক সহায়তা কার্যক্রম চালু রয়েছে, যাতে তারা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ মোকাবিলা করতে পারেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্যারালিম্পিক ও ডিজেবল স্পোর্টস কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ বাড়ানো হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অটিজম আক্রান্ত শিশুদের স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে হবে এবং তাদের প্রতি কোনো ধরনের সামাজিক বৈষম্য বা কলঙ্ক তৈরি করা যাবে না। সরকারের পাশাপাশি সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে তারা আত্মনির্ভরশীল ও সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।