হৃদয় হত্যায় মিলছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গাজীপুরের কোনাবাড়িতে কলেজছাত্র হৃদয় হোসেনকে হত্যার পর মরদেহ গুমের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আরও দুই মাস সময় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ১২ জুলাই নতুন তারিখে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর মঈনুল করিম। এ সময় প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শুনানিতে প্রসিকিউটর মঈনুল করিম বলেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এতে একাধিক ব্যক্তি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধানের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন বলে তিনি আদালতকে জানান।

শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য আগামী ১২ জুলাই নতুন তারিখ নির্ধারণ করে। এদিকে কোনাবাড়ি থানার সাবেক ওসি কেএম আশরাফ উদ্দিনের জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১৯ মে দিন ধার্য করা হয়েছে।

মামলার অগ্রগতির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে সাতজন গ্রেপ্তার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন—ঢাকা উত্তরের সাবেক উপ-কমিশনার আব্দুল্লাহ হেল কাফি, সাবেক ওসি কেএম আশরাফ উদ্দিন, এসআই শেখ আবজালুল হক, শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল আকরাম হোসেন, ফাহিম এবং মাহমুদুল হাসান সজিব।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিজয় মিছিলে অংশ নেন কলেজছাত্র হৃদয় হোসেন। ওইদিন তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তার মরদেহ গুম করা হয় এবং এখনও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।