মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নার্সরাই গড়বে সুস্থ সমাজ : চট্টগ্রামের ডিসি

চট্টগ্রাম, মারুফ প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, মেধার সঙ্গে মানবিকতার সমন্বয় ঘটলেই সমাজ ও রাষ্ট্র প্রকৃতভাবে উপকৃত হয়। চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিক ও মানবিক সেবাই একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল নার্সিং ইনস্টিটিউট ও কলেজের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ ও ক্যাপ পরিধান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নার্সিং পেশাকে মহৎ ও মানবিক সেবার ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা মানুষ, আমাদের অসুস্থতা আছে এবং সেবার প্রয়োজন হয়। সংকটের সময়ে নার্সরাই হাসিমুখে রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সুস্থ করে তোলেন।”

তিনি আরও বলেন, মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব তার মানবিক আচরণেই প্রকাশ পায়। সূর্যের তাপ বা সমুদ্রের গর্জনের মতোই মানবিকতাই মানুষের প্রকৃত পরিচয় বহন করে।

অনুষ্ঠানের আগে ডিসি হাসপাতালের বহিঃবিভাগ, এনআইসিইউ, পিআইসিইউ ও ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মানে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের পরিবেশ ও কর্মীদের আন্তরিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

অটিজম ইউনিট পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, খাদ্যে ভেজাল, পরিবেশ দূষণ ও জিনগত পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে অটিজমসহ বিভিন্ন জটিল রোগ বাড়ছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, ইউরোপ ও জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ ও মানবিক নার্সের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি মানবিক গুণাবলিও বিকশিত করতে হবে।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, “মানুষের আসল পরিচয় তার কর্মে। জীবনের প্রকৃত অর্থ বুঝতে প্রতিটি মানুষের নিয়মিত হাসপাতাল ও কবরস্থান পরিদর্শন করা উচিত।”

নার্সিং সাব-কমিটির চেয়ারম্যান ডা. কামরুন নাহার দস্তগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল মান্নান রানা, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি মো. জাহিদুল হাসান, ট্রেজারার অধ্যক্ষ ডা. লায়ন মোহাম্মদ সানাউল্লাহ এবং প্রশাসনিক পরিচালক ডা. মো. নূরুল হক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। পরে নবীন শিক্ষার্থীদের শপথ পাঠ করিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয়।