রাস্তা নির্মাণ নিয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, যুবলীগ নেতাকে খুঁজছে পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে দেলোয়ার হোসেন (৩৮) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় যুবলীগ নেতা মো. নাছিরের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের তুলাতুলি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত দেলোয়ার হোসেন স্থানীয় আবদুল বাতেনের ছোট ভাই।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবদুল বাতেনের জমির মাঝ দিয়ে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করেন চন্দনপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির। এতে জমির মালিক বাতেন আপত্তি জানিয়ে বলেন, রাস্তা নিতে সমস্যা নেই, তবে জমির মাঝ দিয়ে না নিয়ে এক পাশ দিয়ে নিতে হবে। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করলেও নাছির এতে ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে দেলোয়ার তার পুরাতন বাড়ি থেকে নতুন বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথে নাছির ও তার সহযোগীরা তাকে আটকিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। দেলোয়ারের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চন্দনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, রাস্তা নির্মাণ নিয়ে বিরোধের পর বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। এরপর স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হলেও নাছির ক্ষোভ পুষে রেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত দেলোয়ারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার জানান, জমি সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তদন্তে ঘটনাস্থলে কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছিল এবং অভিযোগকারীর জমির ওপর দিয়ে রাস্তা না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে অভিযুক্ত নাছিরকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া দেলোয়ারের মরদেহের ময়নাতদন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।