ভারতে মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে রাজধানীতে রোববার (১০ মে) বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে রাজধানীর পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত মাসিক বৈঠকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বৈঠকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলমানদের ওপর চলমান নিপীড়ন, উচ্ছেদ অভিযান এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানানো হয়।
মামুনুল হক বলেন, পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর ও মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় মুসলমানদের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ঈদগাহে হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে আসামের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ও বসতবাড়ি ধ্বংসের ঘটনাকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সংখ্যালঘু মুসলমানদের জানমাল, ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। খেলাফত মজলিসের আমির জাতিসংঘ, ওআইসি, মুসলিম বিশ্ব এবং বিশেষ করে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এ বিষয়ে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, মাওলানা মাহবুবুল হক, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
বক্তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে গাজা, লেবানন, ইয়েমেন ও ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিরতা ও সামরিক উত্তেজনা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে গাজা, লেবানন, ইয়েমেন ও ইরানসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকার নিশ্চিত এবং মসজিদুল আকসা–র মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে মুসলিম বিশ্বকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।