কলকাতায় মোদি-অমিত শাহ, এসেছেন বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতারাও

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রথমবারের মতো বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আজ শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। এ উপলক্ষে পুরো কলকাতা শহরে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। স্বাধীনতার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠিত হলো, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানান শুভেন্দু অধিকারী। এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর উপস্থিতিতে তিনি সর্বসম্মতিক্রমে বিজেপি বিধানসভা দলের নেতা নির্বাচিত হন।

শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশেষ বিমানে কলকাতায় পৌঁছালে বিমানবন্দরে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে বিপুল সংবর্ধনা জানান। শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইতিমধ্যে কলকাতায় পৌঁছেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামিসহ প্রায় এক ডজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, জেপি নাড্ডা ও ধর্মেন্দ্র প্রধানসহ শীর্ষ নেতারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন।

বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভায় একাধিক নতুন ও অভিজ্ঞ মুখ স্থান পেতে পারেন। সম্ভাব্য তালিকায় অগ্নিমিত্রা পাল, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এবং প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষের নাম আলোচনায় রয়েছে।

শপথ গ্রহণের আগে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এটি পশ্চিমবঙ্গের জন্য এক “ঐতিহাসিক ও গর্বের মুহূর্ত”। তার দাবি, দীর্ঘদিনের “অবসান হওয়া অপশাসনের পর” রাজ্যে উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির নতুন যুগ শুরু হতে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই সরকার গঠনের মাধ্যমে “সোনার বাংলা” গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে অগ্রযাত্রা শুরু হলো।

অন্যদিকে, একই দিনে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের কর্মসূচি থাকায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কলকাতায় এখন উৎসব ও রাজনৈতিক উত্তেজনার এক অনন্য মিশ্র পরিবেশ বিরাজ করছে।