সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধুত্ব কি সত্যিই একাকিত্ব দূর করে?

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য লাইক, কমেন্ট ও বার্তা আদান-প্রদান হলেও তা সবসময় বাস্তব জীবনের গভীর বন্ধুত্ব তৈরি করতে পারে না। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, অনলাইনে বেশি যোগাযোগ থাকা মানেই মানসিকভাবে কম একাকী হওয়া নয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি জনস্বাস্থ্য গবেষণায় প্রায় দেড় হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের উপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, যাদের অধিকাংশ অনলাইন যোগাযোগ এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে যাদের সঙ্গে কখনও সরাসরি দেখা হয়নি, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি একাকিত্ব অনুভব করেন।

গবেষণায় আরও বলা হয়, শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধু সংখ্যা বাড়ালেই একাকিত্ব কমে না। এমনকি ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে অনলাইনে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও মানসিক স্বস্তি বা সামাজিক সংযোগের অনুভূতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসে না।

গবেষকদের মতে, ভার্চুয়াল সম্পর্ক বাস্তব জীবনের মুখোমুখি সম্পর্কের বিকল্প হতে পারে না। একজন গবেষক অনলাইন বন্ধুত্বকে তুলনা করেছেন এমন খাবারের সঙ্গে, যা দেখতে আকর্ষণীয় হলেও প্রকৃত পুষ্টি দিতে পারে না।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, একাকিত্ব বর্তমানে একটি বড় সামাজিক ও জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিচ্ছিন্নতা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ধূমপানের মতোই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তাদের মতে, প্রকৃত সম্পর্ক গড়ে তুলতে বাস্তব জীবনে মানুষের সঙ্গে মেলামেশা জরুরি। বই পড়ার ক্লাব, খেলাধুলা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম কিংবা স্থানীয় সামাজিক আয়োজনে অংশগ্রহণ নতুন বন্ধুত্ব তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

নতুন মানুষের সঙ্গে আলাপ শুরু করার ক্ষেত্রেও কিছু সহজ কৌশলের কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ হ্যাঁ-না ধরনের প্রশ্নের বদলে খোলামেলা প্রশ্ন করলে কথোপকথন সহজে গভীর হয় এবং পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গবেষণার মূল বার্তা হলো—সোশ্যাল মিডিয়া যোগাযোগের একটি মাধ্যম হলেও প্রকৃত বন্ধুত্ব ও মানসিক সংযোগ তৈরি হয় বাস্তব জীবনের সরাসরি সম্পর্ক ও সময় কাটানোর মাধ্যমে।