এসডিএফ কার্যালয়ে উত্তাল পরিস্থিতি, চেয়ারম্যান ও এমডির পদত্যাগ দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ

ফারুক সূর্য, প্রতিনিধি প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)-এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এর পদত্যাগ দাবিতে রাজধানীর প্রধান কার্যালয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীন এই সংস্থায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন।

সকাল থেকে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে “এক দফা এক দাবি”—চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ ও এমডি নুরুল আমিনের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। আন্দোলনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘রেজিলিয়েন্স, এন্ট্রাপ্রেনিওরশীপ এন্ড লাইভলীহুড ইমপ্রুভমেন্ট (RELI)’ প্রকল্পের কর্মীরাও সংহতি জানান।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা চলছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, RELI প্রকল্পের আওতায় ৩২০০ ল্যাপটপ ক্রয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে দ্বিগুণ দামে নিম্নমানের পণ্য কেনায় প্রায় ১৫-১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, যা বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের তদন্তাধীন।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মানবসম্পদ নীতিমালা উপেক্ষা করে এমডি নিয়োগে বয়সসীমা পরিবর্তন, যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ, এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পদায়নের মতো অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে অফিস স্থানান্তর করে কোটি টাকার আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম কম দামে বিক্রি এবং এনডাওমেন্ট ফান্ডের অর্থ বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে।

তাদের মতে, এসব অনিয়মের কারণে এসডিএফ-এর সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের দীর্ঘ ২৫ বছরের সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। চলমান প্রকল্পের মেয়াদ থাকলেও হঠাৎ প্রকল্প সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়ায় শত শত কর্মী বেকার হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা জানান, প্রশাসনের অসহযোগিতা ও দুর্নীতির কারণে দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে। তাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চেয়ারম্যান ও এমডির পদত্যাগ এখন সময়ের দাবি।

কর্মসূচির কারণে প্রতিষ্ঠানটির দৈনন্দিন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দ্রুত দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।