মমেক ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্রলীগের ১১ নেতা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত ৫১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ১১ জন সাবেক পদধারী নেতার অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির এই কমিটির অনুমোদন দেন। তবে কমিটি ঘোষণার পর থেকেই ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে “অনুপ্রবেশকারীদের” স্থান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা সংগঠনের ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত মমেক ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকা অন্তত ১১ জন নেতা বর্তমান ছাত্রদল কমিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন মো. মোহাইমিনুল ইসলাম নোমান, রিজভী আহমেদ, সাদ মোহাম্মদ, নিলয় সাহা প্রয়াস, জান্নাতুল ইসলাম নাবিল, আব্দুল বাসেত শিবলু, আরাফাত হোসাইন রিফাত, জাকারিয়া আরজু ও সাব্বির আহমেদ সৌরভ। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন মেহেরাব হোসেন মিয়াদ ও প্রান্ত সাহা।

এ ঘটনায় সাবেক ছাত্রনেতারা বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মমেক ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কিডনি বিভাগের প্রধান ডা. আসাদুজ্জামান রতন বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের সাবেক নেতাদের অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত বিব্রতকর এবং কমিটি ঘোষণার আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই প্রয়োজন ছিল। ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ হান্নান বলেন, দলে ত্যাগী নেতাকর্মীর অভাব নেই। বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি ভবিষ্যতে দলের সাংগঠনিক অবস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ঘটনাটিকে নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কমিটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হবে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম আজিজ বলেন, বিতর্কিতদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতোমধ্যে অবগত হয়েছে এবং দ্রুতই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত যুগ্ম আহ্বায়ক রিজভী আহমেদ বলেন, প্রথম বর্ষে থাকাকালীন হলে থাকার সুবিধার্থে তাদের ছাত্রলীগের কমিটিতে রাখা হয়েছিল, তবে তারা কখনোই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন না। একই ধরনের বক্তব্য দেন আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক আরাফাত হোসাইন রিফাতও। তিনি দাবি করেন, তখনকার পরিস্থিতিতে হলে থাকতে বাধ্য হয়েই এমন অবস্থায় থাকতে হয়েছে, তবে তারা মূলত বিএনপির আদর্শেই বিশ্বাসী ছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মমেক ক্যাম্পাসে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং কমিটি নিয়ে পুনর্বিবেচনার দাবি জোরালো হচ্ছে।