জাতীয় মহাসড়কগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পর্যায়ক্রমে আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোও একই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ জেলা প্রশাসক সম্মেলনের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ঈদুল ফিতরের সময় কয়েকটি বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে সামগ্রিকভাবে সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, সড়কে নিরাপত্তা বাড়াতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাতীয় মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। এরপর ধাপে ধাপে আঞ্চলিক সড়কগুলোও এই নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আসবে। সড়ক সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে সড়ক প্রশস্ত করার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে সব প্রকল্প একসঙ্গে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প নির্বাচন করে স্বচ্ছভাবে কাজ করতে হবে।
থ্রি-হুইলার নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে এসব যানবাহন পুরোপুরি বন্ধ করার ইচ্ছা থাকলেও বাস্তবতায় তা কঠিন হয়ে পড়ছে, কারণ অনেক জায়গায় সংযোগ সড়ক রয়েছে। তবে ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ একটি বিপজ্জনক প্রবণতা, যা বন্ধে জেলা প্রশাসন, রেলওয়ে পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সড়কে চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, এটি সম্পূর্ণ অপরাধ এবং কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ইতোমধ্যে কিছু অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, বাকিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আসন্ন ঈদুল আজহা ঘিরে যানজট নিয়েও তিনি সতর্ক করেন। মন্ত্রী বলেন, এবার গরুবাহী ট্রাক ও যাত্রীর চাপ অনেক বেশি থাকবে। প্রায় আড়াই কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়তে পারে এবং বিপুল সংখ্যক পশু পরিবহন করা হবে। তাই যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সড়ক ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও শৃঙ্খলিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।