দেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে।
সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, তহবিলটি স্বল্প সুদে কার্যকরী মূলধন ঋণ হিসেবে বন্ধ কারখানাগুলোকে সহায়তা দেবে। যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান অনিবার্য কারণে বন্ধ হয়ে গেছে এবং ঋণ পরিশোধে আগ্রহী, তারা এ সুবিধা নিতে পারবে। কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ঋণও দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঋণের সুদের হার ১৩ শতাংশ নির্ধারণের কথা ভাবা হচ্ছে, যার সঙ্গে ৫ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি থাকতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি সপ্তাহের শেষদিকে এই তহবিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবিত করা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর আগে, গত ১ মে মহান মে দিবসে এক শ্রমিক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হবে।
এদিকে তহবিল গঠনের আগে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত ১৯ সদস্যের একটি কমিটির মাধ্যমে। কমিটিতে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা ঋণ সহায়তার পাশাপাশি কারখানা পুনরায় চালুর অন্যান্য সম্ভাব্য সহায়তা নিয়েও প্রতিবেদন তৈরি করবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোকে বন্ধ কারখানার তালিকা ও তাদের ঋণের হালনাগাদ তথ্য পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছে। মূলত ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে—এমন কারখানাগুলো এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, যেসব কারখানার বাজার সম্ভাবনা রয়েছে এবং বড় ধরনের অনিয়ম বা অপরাধে জড়িত নয়, সেসব প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়া হবে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ের অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত ভালো শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে ঋণ পুনর্গঠন, ডাউনপেমেন্ট শিথিলকরণ, নতুন তহবিল সহায়তা, এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যাংকিং সুবিধা বৃদ্ধি। পাশাপাশি কম মার্জিনে এলসি খোলার সুযোগ দেওয়ার কথাও বিবেচনায় রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বন্ধ শিল্পকারখানা সচল হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।