নতুন বছরের শুরুতে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সাহিত্য, ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বেশ কিছু বিষয় পুনর্গঠন করে নতুন পাঠ্যসূচি চালু করা হয়েছে। এসব পরিবর্তন শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
পরিবর্তিত পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসের অনেক পুরনো অধ্যায় বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নতুন কিছু বিষয়বস্তু সংযোজন করা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন গদ্য, কবিতা ও প্রবন্ধ বাদ দিয়ে ইতিহাসের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অবদানকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের ভিত্তিতে ৪১ জন বিশেষজ্ঞ ৪৪১টি বই পুনর্গঠন করেছেন। এনসিটিবির চেয়ারম্যান এ কে এম রিয়াজুল হাসান জানান, নতুন পাঠ্যবইয়ের লক্ষ্য ইতিহাসকে নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা। তবে এটি ঘিরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ উঠেছে।
নতুন পাঠ্যসূচিতে নিম্নোক্ত পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করা গেছে:
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাঠ্যসূচির পরিবর্তনে রাজনৈতিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এক পক্ষ নতুন পাঠ্যসূচিকে স্বাগত জানালেও অন্য পক্ষ এতে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে ছোট করে দেখানোর অভিযোগ তুলেছে।
শিক্ষার্থীদের মতে, পাঠ্যবইয়ের এমন পরিবর্তন ইতিহাসকে একরৈখিকভাবে তুলে ধরার ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। এনসিটিবির চেয়ারম্যানের ভাষায়, নতুন পাঠ্যসূচি সব পক্ষের অবদানকে সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রজন্মের সামনে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
তবে, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় পাঠ্যসূচির পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত আটবার শিক্ষাক্রম পরিবর্তন হয়েছে। এই ধারায় নতুন পরিবর্তন কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।
ভিসি/এসকে
আপনার মতামত লিখুন :